স্বপ্নদেখো: স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক মানবিক অভিযাত্রা

স্বপ্নদেখো: স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক মানবিক অভিযাত্রা। একটি সুন্দর সমাজ শুধু বড় বড় স্বপ্ন দেখলেই তৈরি হয় না। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন উদ্যোগ, দক্ষতা, মানবিকতা এবং নিরলস কাজ। আর সেই বিশ্বাসকে ধারণ করেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে স্বপ্নদেখো সমাজকল্যাণ সংস্থা’। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবিকতা। অন্যের কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে অনুভব করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, একটি শিশুর চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন জাগানো, একজন তরুণকে নিজের সম্ভাবনা আবিষ্কার করতে সাহায্য করা—এসব ছোট ছোট কাজই একদিন বড় সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে। সত্যিই স্বপ্নদেখো: স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক মানবিক অভিযাত্রা। যশোর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্বপ্নদেখো সেই পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে। শিশু শিক্ষা, তরুণদের দক্ষতা ও ক্ষমতায়ন, স্বেচ্ছাসেবকতা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, প্রযুক্তি শিক্ষা, পরিবেশ সচেতনতা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চা, উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি মানুষ ও সমাজের সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। স্বপ্নদেখোর বর্তমান ওয়েবসাইটেও শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবাকে সংগঠনটির কাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

স্বপ্নদেখো: স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক মানবিক অভিযাত্রা
স্বপ্নদেখো: স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক মানবিক অভিযাত্রা

স্বপ্নদেখোর শুরু: তরুণদের স্বপ্নকে শক্তিতে পরিণত করার প্রত্যয়

২০১৩ সালের ২৮ মার্চ এমএম কলেজের কয়েকজন উদ্যমী শিক্ষার্থীর হাত ধরে স্বপ্নদেখোর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। শুরু থেকেই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল—তরুণদের ইতিবাচক ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং যশোর অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবী কাজের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করা। স্বপ্নদেখোর স্বেচ্ছাসেবকদের আকাঙ্ক্ষা ছিল শুধু নিজেরা ভালো কাজ করা নয়; বরং তাদের মতো আরও মানুষ যেন স্বেচ্ছাসেবী কাজে এগিয়ে আসেন, আরও সংগঠন গড়ে ওঠে এবং সমাজে ভালো কাজের একটি ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এই পথচলায় এসেছে অনেক আনন্দের অভিজ্ঞতা, অর্জন ও সাফল্য। পাশাপাশি এসেছে কিছু কঠিন ও তিক্ত অভিজ্ঞতাও। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাগুলোই স্বপ্নদেখোকে আরও বাস্তববাদী, আরও দায়িত্বশীল এবং আরও দৃঢ় হওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

 

স্বপ্নদেখোর প্রতিবন্ধী সেবা কার্যক্রম
স্বপ্নদেখো: স্বপ্নকে স্বপ্নদেখোর প্রতিবন্ধী সেবা কার্যক্রম।

স্বপ্নদেখোর মূল ভাবনাটি সহজ, কিন্তু গভীর

একজন তরুণ একটি ভালো স্বপ্ন দেখবে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে এবং তার সেই স্বপ্নের সঙ্গে সমাজের কল্যাণকে যুক্ত করবে। সঠিক দিকনির্দেশনা, দক্ষতা, সুযোগ এবং একটি সহায়ক পরিবেশ পেলে একজন তরুণ যে সমাজ পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত হতে পারেন—স্বপ্নদেখোর দীর্ঘ পথচলা সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। মহান মুক্তিযুদ্ধে ১১টি সেক্টরের মাধ্যমে যুদ্ধ করে এই বাংলাদেশকে স্বাধীন করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে ধরণ করে আমরা আমাদের কার্যক্রমকে ১১ বিভাগে ভাগ করেছি। নিচে প্রতিটি বিভাগ ও তার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

 

১. স্বপ্নদেখো প্রতিবন্ধী স্কুল পুনর্বাসন সেক্টর:

স্বপ্নদেখোর প্রতিবন্ধী সেবা কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর প্রতিবন্ধী সেবা কার্যক্রম

প্রতিবন্ধীদের স্থির জীবনে গতি সঞ্চার করতে এগিয়ে চলেছে স্বপ্নদেখো সমাজ কল্যাণ সংস্থা। যশোরের ৩ নং ইছালী ইউনিয়নে দুজন মহৎ ডাক্তারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রতিবন্ধীদের সেবা ও উন্নয়নে কাজ করে চলেছি। আমরা প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দুজন অভিজ্ঞ ডাক্তারকে সাথে নিয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগী দেখেছেন স্বপ্নদেখোর সদস্যরা।

 

২. কম্পিউটার প্রজন্ম সেক্টর:

স্বপ্নদেখোর কম্পিউটার প্রজন্ম সেক্টরের কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর কম্পিউটার প্রজন্ম সেক্টরের কার্যক্রম

এই বিভাগের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে যশোরের ৩ নং ইছালী ইউনিয়নের ০৮ (আট) টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নয়শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্পিউটারে হাতে খড়ি দিয়েছি। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে আমরা কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞান বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছি। সক্ষম হয়েছি তাদের মাঝে বড় হওয়ার স্বপ্নের বীজ বপন করতে। এই কার্যক্রম এখনো চলমান। একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার শেখার সুযোগের ওপর। আর বর্তমান পৃথিবীতে প্রযুক্তি শিক্ষা সেই শেখার একটি অপরিহার্য অংশ। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই স্বপ্নদেখো শিশুদের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পরিচালিত হয়েছে ‘কম্পিউটারে হাতেখড়ি’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু কম্পিউটারের কয়েকটি বাটন বা সফটওয়্যার শেখানো নয়। বরং ছোটবেলা থেকেই শিশুদের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তাদের ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করা। অর্থাৎ প্রযুক্তিকে স্বপ্নদেখো দেখে কেবল একটি দক্ষতা হিসেবে নয়—সম্ভাবনার দরজা হিসেবে।

 

৩. মুক্তিযুদ্ধ জানার যুদ্ধ:

স্বপ্নদেখোর মুক্তিযুদ্ধ জানার যুদ্ধ সেক্টরের কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর মুক্তিযুদ্ধ জানার যুদ্ধ সেক্টরের কার্যক্রম

এটি স্বপ্নদেখোর একটি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যশোরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫০০ (এক হাজার পাঁচশত) শিক্ষার্থীর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ঘটনা মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। স্বপ্নদেখোর বিভিন্ন কার্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ও অবদান এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে দেশের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করা শুধু অতীতকে স্মরণ করার বিষয় নয়। এটি তাদের বর্তমানের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও সচেতন করে। কারণ যে প্রজন্ম নিজের ইতিহাস জানে, সে প্রজন্ম নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্বও আরও সচেতনভাবে নিতে পারে।

স্বপ্নদেখোর মুক্তিযুদ্ধ জানার যুদ্ধ সেক্টরের কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর মুক্তিযুদ্ধ জানার যুদ্ধ সেক্টরের কার্যক্রম

 

৪. স্বপ্নদেখো গণ-পাঠাগার সেক্টর:

স্বপ্নদেখোর গণপাঠাগার সেক্টরের কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর গণপাঠাগার সেক্টরের কার্যক্রম

১২০০ (বার শাতাধিক) বই নিয়ে চলছে আমাদের এই পাঠাগার। নিয়মিত বই পাঠ, কুইজ, রচনা লেখা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে আমাদের পাঠাগার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের গণ-গ্রন্থাগার কর্তৃক অনুমোদিত এই পাঠাগারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বই পড়তে আসেন। শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বই মানুষের চিন্তার জগৎকে বিস্তৃত করে, প্রশ্ন করতে শেখায় এবং নতুন পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই ভাবনা থেকে স্বপ্নদেখোর কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে স্বপ্নদেখো গণ-পাঠাগার।একটি পাঠাগার মানে শুধু বই রাখার জায়গা নয়। এটি হতে পারে একটি শিশুর কল্পনার দরজা, একজন তরুণের জ্ঞানচর্চার জায়গা এবং একটি সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের কেন্দ্র।

স্বপ্নদেখো সেই জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরির পথেও কাজ করছে।

স্বপ্নদেখোর গণপাঠাগার সেক্টরের কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর গণপাঠাগার সেক্টরের কার্যক্রম

 

৫. সমাজ পরিবেশ উন্নয়ন সেক্টর:

স্বপ্নদেখোর মেডিকেল সেক্টরের কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর মেডিকেল সেক্টরের কার্যক্রম

সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সমাজসেবা উন্নয়ন বিভাগ। স্বপ্নদেখোর সমাজসেবকগণ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, পাঠদান কার্যক্রম, চিত্রাঙ্কন, আবৃতি প্রশিক্ষণ, দূর্যোগপীড়িত অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমসহ নানামুখী সমাজসেবা মুলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করে আসছে। বৃক্ষ রোপণ, মৎস্য অবমুক্তকরণ সহ নানা কাজ এই বিভাগের মাধ্যমে করা হয়। স্বপ্নদেখোর যাত্রার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বেচ্ছাসেবকতা মানে শুধু বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করা নয়। এটি মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিজের সময়, দক্ষতা ও সামর্থ্যকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর একটি মানসিকতা। এই দর্শন থেকেই স্বপ্নদেখো চায়— আরও তরুণ স্বেচ্ছাসেবী হয়ে উঠুক। তারা চাই আরও মানুষ সামাজিক কাজে যুক্ত হোক এবং ভালো কাজ একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত হোক। স্বপ্নদেখোর সাম্প্রতিক ব্লগগুলোতে আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠনগুলোর সাফল্য বিশ্লেষণ এবং তাদের কাছ থেকে শেখার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে UNICEF, BRAC এবং Save the Children-এর মতো প্রতিষ্ঠানের কাজ থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বপ্নদেখোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

৬. স্বপ্নদেখো স্কিল একাডেমি সেক্টর:

স্বপ্নদেখোর স্কিল একাডেমি সেক্টরের কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর স্কিল একাডেমি সেক্টরের কার্যক্রম

যুবদেরকে তথ্য ও প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং যোগ্য করে গড়ে তুলতে আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তুলেছি এই ট্রেনিং সেন্টার। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের সিলেবাসে আমরা যুবদেরকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী অফিস অ্যাপ্লিকেশন ও ডাটাবেজ প্রোগ্রামিং কোর্সে এই পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচে ২৬৯ (দুইশত উনসত্তর) জনকে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। বর্তমানে ৬৭ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। এই ট্রেনিং সেন্টার থেকে ৩৯ জন ব্যক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তারা অনেকেই অ্যাবাকাস কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টারে এসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কোর্স ছাড়াও গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, আউট সোর্সিং কোর্স করানো হয়। যুবদেরকে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শেখানোর মাধ্যমে তাদেরকে ইনকামের মাধ্যম সৃষ্টি করে দেওয়া, এবং গরীব বাচ্চাদেরকে ফ্রি কম্পিউটার শেখানোর কাজ করে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান।

 

৭. স্বপ্নবুনি হস্তশিল্প সেক্টর:

জোনাকির মেলা পাঠশালার শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবক অর্থাৎ তাদের মা এবং বড় বোনদেরকে স্বাবলম্বী করতে এই বিভাগের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে স্বল্পমূল্যে দর্জি প্রশিক্ষণ প্রদান করি। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজের মেয়ে শিক্ষার্থীরা এই বিভাগ থেকে এখন দর্জি, ব্লক-বাটিক, কারু শিল্পে বিভিন্ন কাজ শিখছে। এই পর্যন্ত ৪২৩ (চারশত তেইশ) জনকে আমরা এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পেরেছি। তারমধ্যে ১৭(সতেরো) জনের বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

 

৮. স্বপ্নদেখো খাদ্য কৃষি সেক্টর:

স্বপ্নদেখোর কৃষি বিষয়ক সেক্টরের কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর কৃষি বিষয়ক সেক্টরের কার্যক্রম

এই বিভাগের মাধ্যমে শহরের শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদেরকে আমরা মাঠে কৃষকের সাথে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য শিক্ষিত যুবারা যেন কৃষকের পাশে এসে দাঁড়ায় ও কৃষি নিয়ে কাজ করে। প্রতিবছর চারবার আমরা শহরের যুব ও কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে মাঠে কাজ করি। সর্ব মহল থেকে আমরা ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছি ইতোমধ্যে এই কার্যক্রমের উপর স্থানীয় পত্রিকায় একাধিক বার ও দৈনিক কালের কণ্ঠে একবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কার্যক্রমটি এখনো চলমান। সামাজিক উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে মানুষের জীবন ও জীবিকার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হয়। স্বপ্নদেখোর কার্যক্রমের তালিকায় খাদ্য ও কৃষি বিভাগ রয়েছে। একই সঙ্গে স্বপ্নবুনি হস্তশিল্প-এর মতো উদ্যোগও সংগঠনটির কাজের পরিসরকে শিক্ষা ও মানবিক সহায়তার বাইরে জীবিকা ও দক্ষতার ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়— স্বপ্নদেখোর কাছে উন্নয়ন মানে শুধু সহায়তা দেওয়া নয়; মানুষের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করাও উন্নয়নের অংশ।

 

৯. জোনাকির মেলা পাঠশালা সেক্টর:

স্বপ্নদেখোর জোনাকির মেলা পাঠশালা সেক্টরের কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর জোনাকির মেলা পাঠশালা সেক্টরের কার্যক্রম

এই পাঠশালার মাধ্যমে আমরা যশোরের খড়কি এলাকার বস্তিতে শিশুদেরকে বিনামূল্যে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, নাচ, গান, রচনা লেখা, কবিতা লেখাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকি। তাদেরকে নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি স্কুলে যেতে উদ্বুদ্ধ করে চলেছি। যার ফলে ঐ এলাকায় এখন স্কুলগামী শিশুদের সংখ্যা আগের চেয়ে দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। শিশুরাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ। আজকের একটি শিশু আগামী দিনের শিক্ষক, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, গবেষক, সংগঠক কিংবা সমাজনেতা হতে পারে। কিন্তু প্রত্যেক শিশুর সামনে সমান সুযোগ থাকে না। কেউ জন্ম থেকেই সুবিধাবঞ্চিত, কেউ আর্থিক সংকটে, কেউ প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে পড়ে, আবার কেউ প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে স্বপ্নদেখো শিশুদের জন্য শিক্ষা ও সহায়তামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে জোনাকির মেলা পাঠশালা এবং স্বপ্নদেখো প্রতিবন্ধী স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। শিশুদের শিক্ষা, যত্ন ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্বপ্নদেখোর সাম্প্রতিক ব্লগগুলোতেও বিশেষভাবে উঠে এসেছে। কারণ একটি শিশুকে সাহায্য করা মানে শুধু আজকের একটি সমস্যার সমাধান করা নয়— একটি ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা।

 

১০. স্বপ্নদেখো জ্ঞান চর্চা সেক্টর:

এটি স্বপ্নদেখোর সবচেয়ে বড় বিভাগের একটি। যেখানে বিতর্ক শিল্পের চর্চা ও বিতার্কিক তৈরিতে কাজ করা হয়। ২০০৯ সাল থেকেই আমরা এই বিভাগটি নিয়ে কাজ করছি। এ পর্যন্ত ৩৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৩০০ তেতাল্লিশ শত শিক্ষার্থীদেরকে আমরা বিতর্ক শিখিয়েছি। আমাদের বিতার্কিকরা খুলনা বিভাগে চ্যাম্পিয়ান হয়েছেন, শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়েছেন। আমাদের একজন বিতার্কিক এপেক্স ক্লাব অব বাংলাদেশ আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বক্তা হন। ২০১৬ সালে আমরা মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির হাত থেকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক সংগঠনের পুরস্কার গ্রহণ করি। এখন আমরা যশোরের আটটি উপজেলাতে বিতর্ক নিয়ে কাজ করছি।

 

১১. গার্বেজ রিসাইকেলিং সেক্টর:

নিয়মিতভাবে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ উন্নয়নেও কাজ করছে স্বপ্নদেখো। বর্তমানে একটি অনন্য ইনোভেশন গার্বেজ রিসাইকেলিং নিয়ে কাজ করছে স্বপ্নদেখো’র গার্বেজ রিসাইকেলিং বিভাগ। এছাড়াও এ বিভাগের অধীনে বৃক্ষ রোপণ, মৎস্য অবমুক্তকরণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান সহ নানা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করছে স্বপ্নদেখো গার্বেজ রিসাইকেলিং বিভাগ। বিভাগের বাইরেও স্বপ্নদেখো নিয়মিত কিছু কাজ করে চলেছে।

 

নিয়মিত কাজ সমূহ:

এই বিভাগের মাধ্যমে আমরা নিয়মিত রক্তদান করে আসছি। এ পর্যন্ত আমরা ১৯৩ ব্যাগ রক্তদান করতে সক্ষম হয়েছি। এবং ছয় শতাধিক মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। অনিয়মিত কাজের মধ্যে আছে সাহিত্য আড্ডা, ইস্যুভিত্তিক মানববন্ধন, বিভিন্ন দিবস উদ্‌যাপন, বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে তথ্য জরিপ পরিচালনাসহ নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকি।

 

প্রকৃতি পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা

স্বপ্নদেখোর বৃক্ষ রোপন সেক্টরের কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর বৃক্ষ রোপন সেক্টরের কার্যক্রম

মানুষের কল্যাণ প্রকৃতির কল্যাণ থেকে আলাদা নয়। এই উপলব্ধি থেকেই বৃক্ষরোপণ, উন্মুক্ত জলাশয়ে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতার মতো উদ্যোগের সঙ্গে স্বপ্নদেখোর কার্যক্রম যুক্ত হয়েছে। বর্তমান সময়ে পরিবেশ রক্ষা কেবল কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। একটি গাছ শুধু ছায়া দেয় না—এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, জীববৈচিত্র্যকে সহায়তা করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরিতে ভূমিকা রাখে। স্বপ্নদেখোর পরিবেশভিত্তিক উদ্যোগ তাই তাদের সামাজিক উন্নয়ন ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করে।

 

রক্তদান স্বাস্থ্যসেবার মানবিক উদ্যোগ

এক ব্যাগ রক্ত কখনো কখনো একটি জীবন বাঁচাতে পারে। এই বাস্তবতা থেকেই রক্তদানের মতো মানবিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বপ্নদেখোর কার্যক্রমের তালিকায় রয়েছে স্বপ্নদেখো ব্লাড ব্যাংক রক্তদানের সংস্কৃতি তৈরি করা মানে শুধু জরুরি সময়ে রক্তের ব্যবস্থা করা নয়; বরং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

 

উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষণ দক্ষতা উন্নয়ন

স্বপ্নদেখোর উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম
স্বপ্নদেখোর উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম

একজন তরুণের হাতে যদি দক্ষতা থাকে, তাহলে তার সামনে সম্ভাবনার দরজা অনেকটাই খুলে যায়। স্বপ্নদেখোর বিভিন্ন উদ্যোগে তরুণ, উদ্যোক্তা ও সংগঠকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দক্ষতা উন্নয়ন, পরিকল্পনা, উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিজের কাজকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের আরও আত্মনির্ভর ও কার্যকর করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। স্বপ্নদেখোর দৃষ্টিতে একজন উদ্যোক্তা শুধু নিজের জন্য কাজ করেন না। তিনি কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন, অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। এই কারণে তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও পরিবর্তনের নেতৃত্বদাতা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

 

তরুণদের সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করা

স্বপ্নদেখো বিনামূল্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
স্বপ্নদেখো বিনামূল্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

স্বপ্নদেখোর সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গাগুলোর একটি হলো তরুণদের সঙ্গে কাজ করা। তরুণরা একটি সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মধ্যে রয়েছে শক্তি, সৃজনশীলতা, নতুন কিছু করার সাহস এবং পরিবর্তন আনার ক্ষমতা। স্বপ্নদেখোর সাম্প্রতিক ব্লগেও বিশ্বজুড়ে তরুণদের ক্ষমতায়ন কর্মসূচি থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। স্বপ্নদেখো বিশ্বাস করে— তরুণদের শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করলেই হবে না; তাদের সমাজের জন্য কাজ করার মানসিকতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধও তৈরি করতে হবে। একজন তরুণ যদি নিজের পাশাপাশি আরও দশজনকে ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করতে পারেন, তাহলে সেই পরিবর্তনের প্রভাব বহুগুণে ছড়িয়ে পড়ে।

 

সংগঠন থেকে একটি পরিবার

যুব উন্নয়নে স্বপ্নদেখোর অংশগ্রহণ
যুব উন্নয়নে স্বপ্নদেখোর অংশগ্রহণ

একটি সামাজিক সংগঠনের শক্তি শুধু তার কর্মসূচির সংখ্যায় নয়; তার মানুষের মধ্যে। স্বপ্নদেখোর বিভিন্ন বার্ষিকী, সাধারণ সভা, সদস্যদের নিয়ে আয়োজন, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা, মতবিনিময় ও সম্মাননা প্রদানের মতো কার্যক্রমে সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক ও দলগত চেতনা তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। একটি সংগঠনের সদস্যরা যখন শুধু দায়িত্ব পালনকারী মানুষ না হয়ে পরস্পরের সহযাত্রী হয়ে ওঠেন, তখন সংগঠনটি একটি পরিবারের মতো হয়ে ওঠে। আর দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক কাজের জন্য এই পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরে

স্বপ্নদেখোর যাত্রা স্থানীয় উদ্যোগ থেকে ধীরে ধীরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০১৭ সালে স্বপ্নদেখো ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিভিন্ন স্বীকৃতি ও সম্মাননার তথ্য পাওয়া যায়। ২০২২ সালে ব্যাংককে ১২০টিরও বেশি দেশের তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে স্বপ্নদেখোর সভাপতির বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার তথ্যও সংবাদে এসেছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা একটি স্থানীয় সংগঠনের জন্য শুধু সম্মানের নয়; বরং নতুন ধারণা শেখা, বিশ্বের অন্যান্য সংগঠনের কাজ দেখা এবং নিজেদের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার একটি সুযোগ।

যশোরের জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে স্বপ্নদেখোর সভাপতি জহির ইকবাল নান্নু
যশোরের জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে স্বপ্নদেখোর সভাপতি জহির ইকবাল নান্নু

সামনে আরও বড় স্বপ্ন

স্বপ্নদেখোর বর্তমান ব্লগগুলোতে ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার— সংগঠনটি তার কাজকে আরও কার্যকর, বিস্তৃত ও প্রভাবশালী করতে চায়। শিশু সহায়তা, তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংগঠনগুলোর সফলতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয়গুলো সেই ভবিষ্যৎ ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি স্থানীয় সামাজিক উদ্যোগের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তার মানুষের ওপর আস্থা। স্বপ্নদেখোর সেই মানুষগুলো হলো— স্বেচ্ছাসেবক, তরুণ, শিক্ষক, সংগঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী, দাতা এবং সমাজের সেসব মানুষ যারা বিশ্বাস করেন, ভালো কাজের কোনো বিকল্প নেই।

 

স্বপ্নদেখো—একটি চলমান প্রত্যয়

স্বপ্নদেখোর গল্পটা কেবল একটা  প্রতিষ্ঠানের গল্প নয় বরং  কিছু স্বপ্নবান মানুষের গল্প, যারা একটা সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্নে এই প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে তাদের স্বপ্নযাত্রা শুরু করেছিল। একটা শিশুর হাতে প্রথমবার কম্পিউটার তুলে দেওয়া, একটা বইয়ের পাতা উল্টে দেওয়া, একজন পথহারা তরুণকে বলা “তুমি পারবে”, একজন প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো, রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাতে পাশে দাড়ানো, একটা সবুজ পৃথিবীর স্বপ্নে গাছ লাগানো, তরুণ প্রজন্মের সামনে আমাদের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা —এগুলো আলাদা আলাদা কাজ মনে হলেও, আসলে এক জায়গা থেকেই আসে।

তরুণদের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন স্বপ্নদেখোর সভাপতি মো. জহির ইকবাল নান্নু
তরুণদের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন স্বপ্নদেখোর সভাপতি মো. জহির ইকবাল নান্নু

স্বপ্নদেখো—মানে বিশ্বাস

বিশ্বাস থেকে, স্বপ্ন থেকে। বিশ্বাস, পৃথিবীটা একদিন স্বপ্নের মতই সুন্দর হবে। একটা ছোট্ট শুরুও একদিন বড় কিছুতে পরিণত হতে পারে। আর যখন অনেকগুলো মানুষ একসাথে দাঁড়ায়, তখন গোটা একটা সমাজই বদলে যেতে পারে— স্বপ্ন থেকে বাস্তবতায়। স্বপ্নদেখো আসলে এই বিশ্বাসটাকেই বহন করে চলেছে বছরের পর বছর। এটা কোনো একদিনের গল্প না, এটা প্রতিদিনের গল্প—প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়ার গল্প।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন স্বপ্নদেখোর সভাপতি জহির ইকবাল নান্নু
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন স্বপ্নদেখোর সভাপতি জহির ইকবাল নান্নু

 

স্বপ্নদেখো—মানে শুধুই স্বপ্ন নয়

স্বপ্নদেখো মানে শুধু স্বপ্ন নয় । ‘স্বপ্নদেখো’ নামটির মধ্যেই রয়েছে একটি আহ্বান—স্বপ্ন দেখতে হবে। কিন্তু শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না। স্বপ্নকে পরিকল্পনায় রূপ দিতে হবে। পরিকল্পনাকে কাজে পরিণত করতে হবে। কাজকে মানুষের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আর সেই কাজকে টেকসই করার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, নেতৃত্ব, স্বেচ্ছাসেবকতা ও মানুষের অংশগ্রহণ। স্বপ্নদেখোর দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর দিক এখানেই। এটি শুধু তরুণদের স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করতে চায় না; বরং সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও উদ্যোগের পথও তৈরি করতে চায়। এভাবেই একটি সুন্দর বিশ্ব নির্মানে স্বপ্ন এগিয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top