শিশুর জন্য সুন্দর পৃথিবী গড়তে কাজ করে চলেছে ইউনিসেফ
প্রথমেই বলা যায়, শিশুই দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু যুদ্ধ, দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে শিশুদের জীবনেই। আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লাখো শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। এই বাস্তবতায় ইউনিসেফ (UNICEF) দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। বাংলাদেশসহ বহু দেশে তারা নানা উদ্যোগ নিয়েছে, যা শুধু শিশুদের জীবন বদলে দিচ্ছে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও আশার আলো জ্বালাচ্ছে।
ইউনিসেফ কী?
প্রথমত, ইউনিসেফ (UNICEF)-এর পূর্ণরূপ হলো United Nations International Children’s Emergency Fund। বাংলায় এর অর্থ জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল। এটি জাতিসংঘের একটি বিশেষ সংস্থা, যা মূলত শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে। অতএব, ইউনিসেফ শিশুদের জীবন রক্ষা, তাদের সঠিক বিকাশ, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রদানে বিশ্বব্যাপী অন্যতম শীর্ষ সংস্থা।
কবে থেকে কাজ শুরু?
• ইতিহাস অনুযায়ী, ইউনিসেফ প্রতিষ্ঠিত হয় ১১ ডিসেম্বর ১৯৪৬ সালে।
• প্রথমে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ ও চীনের যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের খাদ্য, পোশাক ও চিকিৎসা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি গঠিত হয়েছিল।
• However, সময়ের সাথে সাথে এর কার্যক্রম শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষায় বিস্তৃত হয়।
• Finally, ১৯৫৩ সালে ইউনিসেফ জাতিসংঘের স্থায়ী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
কতটি দেশে কাজ করে?
বর্তমানে, ইউনিসেফ ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে কাজ করছে।
• এর মধ্যে প্রায় সব জাতিসংঘ সদস্য দেশ অন্তর্ভুক্ত।
• Moreover, প্রতিটি দেশে তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা, স্থানীয় সমস্যা অনুযায়ী প্রকল্প এবং সরকারি সহযোগিতায় উদ্যোগ পরিচালনা করা হয়।
কিভাবে কাজ করে?
Firstly – স্বাস্থ্য ও পুষ্টি:
• শিশু ও নবজাতকের টিকাদান কর্মসূচি।
• অপুষ্টি দূরীকরণের জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ।
• মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা।
Secondly – শিক্ষা:
• প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে দরিদ্র ও দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য।
• সংকটকালে (যেমন যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ) বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা চালু।
• শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ।
Thirdly – শিশু সুরক্ষা:
• শিশুদের শোষণ, পাচার ও সহিংসতা থেকে রক্ষা।
• শরণার্থী ও সংঘাতপীড়িত শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় ও সহায়তা।
• শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা।
Forthly – জরুরি সহায়তা:
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা মহামারির সময় দ্রুত খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয় সহায়তা দেওয়া।
• মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও জরুরি ত্রাণ টিম পরিচালনা।
Lastly – জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা:
• জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সহায়তা।
• নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্প।
• দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ।
অর্থায়ন ও সহযোগিতা
In addition, ইউনিসেফ সরকারি অনুদান, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, কর্পোরেট পার্টনারশিপ এবং ব্যক্তিগত অনুদানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। তাছাড়া, তারা স্থানীয় সরকার, এনজিও, এবং কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের কার্যক্রম
Beside,বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, ইউনিসেফের সবচেয়ে বড় কাজগুলোর একটি হচ্ছে রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তা। For example, কক্সবাজারে বসবাসরত লাখো শরণার্থী শিশুর জন্য তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি, অস্থায়ী শেখার কেন্দ্র, প্রশিক্ষিত শিক্ষক, এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে কাজ চলছে।
On the other hand, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় ও নদীভাঙন অঞ্চলে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্যও ইউনিসেফ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সাতক্ষীরা, খুলনা, ভোলা প্রভৃতি জেলায় নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে তারা শিশুদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে।
similarly, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুকে প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইউনিসেফ টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। হাম, রুবেলা, পোলিওসহ বিভিন্ন টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি নবজাতক ও গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবাও জোরদার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্যোগ
Globally, বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ এলাকা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইউনিসেফ জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। Moreover, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রও তৈরি করা হয়েছে।
In Africa, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও কেনিয়ায় খরা ও খাদ্য সংকটে ভোগা শিশুদের জন্য জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং অপুষ্টি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করেছে ইউনিসেফ। এভাবে, এসব অঞ্চলে ক্ষুধা ও অপুষ্টি শিশু মৃত্যুর বড় কারণ হয়ে দাঁড়ালেও ইউনিসেফের এসব উদ্যোগ অনেক প্রাণ রক্ষা করছে।
In addition, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে শিশুদের মানসিক ও শিক্ষাগত ক্ষতি কমাতে তারা অনলাইন শিক্ষা, বিকল্প ক্লাস এবং কাউন্সেলিং সেবা দিচ্ছে।
কেন এই উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ
Clearly, শিশুর জীবন শুরু হয় নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুস্থতার মাধ্যমে। কিন্তু সংঘাত, দারিদ্র্য বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তোলে। তাই, ইউনিসেফ শুধু ত্রাণ দেয় না; তারা এমন ব্যবস্থা নেয় যা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে ও এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
In addition, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও, এই উদ্যোগগুলো শুধু মানবিক সহায়তা নয়, ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। আজ যে রোহিঙ্গা শিশু শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে, আগামী দিনে সেই শিশুই সমাজে অবদান রাখতে পারে। Similarly, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সচেতনতা ও প্রস্তুতি গড়ে তোলা মানে ভবিষ্যতে দুর্যোগের ক্ষতি কমানো।
আমাদের করণীয়
In conclusion, ইউনিসেফের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া, এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তুলতে পারে। অতএব, আমরা ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বেচ্ছাসেবী কাজ বা অর্থ সহায়তার মাধ্যমে এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারি।
শেষকথা
Finally, শিশুর হাসি, খেলা আর শিক্ষা—এসবই একটি দেশের শক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক। তাই, ইউনিসেফ সেই হাসি ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে দিনরাত। Therefore, শিশুদের জন্য এই পৃথিবীকে নিরাপদ, সুন্দর ও সুযোগে ভরা করে তোলা শুধু ইউনিসেফের দায়িত্ব নয়, বরং আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।